জেলার পটভূমি

বৃটিশ ভারত তথা অবিভক্ত বাংলার প্রথম মহকুমা খুলনা -১৯৮৩ সালের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস - পূর্বকালে আয়তনের হিসেবে ছিল বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম জেলা।লোকসংখ্যায় দশম।এসময় ‘খুলনা জেলা’ বলতে বুঝাতো খুলনা সদর ,বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা মহকুমা-র সম্মিলিত ভূভাগকে (অতঃপর প্রায়শ ‘বৃহত্তর খুলনা’ হিশেবে উল্লিখিত), যার মোট আয়তন ছিল ৪,৬৯৭ বর্গমাইল (নদী এলাকাসহ)। তবে প্রশাসনিক পুর্বিন্যাসের কারনে খুলনার পরিমাণফল দাঁড়ায় ৪,৩৯৪ বর্গকিলোমিটার; এবারে হয় দেশের চতুর্থ বৃহত্তম জেলা।

জেলা গঠনকালের অব্যবহিত পূর্বের বা আরও নির্দিষ্ট করে বললে ১৮৮১ সালের ‘বঙ্গীয় জনগণনা’(Census of Bengal, 1881) অনুযায়ী বৃটিশ শাসনাধীন ‘বঙ্গপ্রদেশ’ বলতে বুঝাতো বাংলা, বিহার, ওড়িশা ও  ছোটনাগপুর এবং কোচবিহার -পার্বত্য ত্রিপুরা প্রভৃতি ৩টি সামন্তরাজ্য মিলিয়ে ১,৫০,৫৮৮ বর্গমাইলব্যাপী (সুন্দরবন ও বড়ো বড়ো নদী এলাকা ব্যতীত) বিস্তৃত ভূভাগকে। এর মধ্যে বর্তমান বাংলাদেশের যেসব জেলা আজকের প্রচলিত নামেই বঙ্গপ্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল যথা ’প্রেসিডেন্সি’ বিভাগাধীন যশোর ও খুলনা ( কুষ্টিয়া তখন ছিল নদীয়া জেলাভুক্ত); রাজশাহী বিভাগাধীন দিনাজপুর, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা; ঢাকা বিভাগাধীন ঢাকা, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রাম বিভাগাধীন চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম - এই ১৫ টি জেলার মধ্যে আয়তনের দিক দিয়ে খুলনা ছিল দ্বাদশ স্থানীয়। অন্যদিকে দেশবিভাগ তথা ৪৭- পরবর্তীকালে বর্ণিত পনেরো জেলা ও কুষ্টিয়া মিলিয়ে মোট ১৬টি জেলার মধ্যে খুলনা ছিল আয়তনে তৃতীয় এবং লোকসংখ্যার হিসাবে একাদশ।